চরফ্যাশন প্রতিনিধি:
চোখের চিকিৎসায় চরফ্যাশনসহ উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমাতে নতুন আঙ্গিকে কার্যক্রম শুরু করেছে চরফ্যাশন দ্বীপ চক্ষু হাসপাতাল ও ডায়াবেটিস সেন্টার। আধুনিক প্রযুক্তি, অভিজ্ঞ চক্ষু বিশেষজ্ঞ এবং উন্নত চিকিৎসাসেবার সমন্বয়ে স্থানীয় পর্যায়ে মানসম্মত চক্ষু চিকিৎসা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চোখের সাধারণ রোগের চিকিৎসার পাশাপাশি ছানি, গ্লুকোমা, ডায়াবেটিক চোখের সমস্যা, চোখের বিভিন্ন জটিলতা এবং প্রয়োজনীয় চক্ষু অস্ত্রোপচারের সেবা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ছানি রোগীদের জন্য আধুনিক ফ্যাকো সার্জারিসহ প্রয়োজনীয় অপারেশন সুবিধা চালুর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
চরফ্যাশনের মানুষের পাশাপাশি ভোলা জেলার বিভিন্ন উপকূলীয় ও দুর্গম এলাকার রোগীদের কথা বিবেচনায় রেখে চিকিৎসাসেবাকে আরও সহজলভ্য করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। নিয়মিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ, চোখ পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় ডায়াগনস্টিক সেবা এবং অপারেশনের জন্য রোগী ব্যবস্থাপনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
হাসপাতালে বিভিন্ন সময়ে ঢাকার অভিজ্ঞ চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও সার্জনরা চিকিৎসাসেবা প্রদান করছেন। এর ফলে স্থানীয় রোগীদের অনেক ক্ষেত্রে চোখের চিকিৎসার জন্য ঢাকা বা দূরের শহরে যাওয়ার প্রয়োজন কমবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবার সঙ্গে ডায়াবেটিস স্ক্রিনিং ও ডায়াবেটিসজনিত চোখের রোগ শনাক্তকরণকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘদিনের অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস চোখের বিভিন্ন জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। তাই নিয়মিত ডায়াবেটিস পরীক্ষা ও চোখের পরীক্ষা—দুটিই গুরুত্বপূর্ণ।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, চরফ্যাশনের মতো উপকূলীয় এলাকায় উন্নত চক্ষু চিকিৎসার সুযোগ তৈরি হওয়া সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ, দরিদ্র রোগী এবং দুর্গম এলাকার বাসিন্দারা এর মাধ্যমে উপকৃত হতে পারেন।
চরফ্যাশন দ্বীপ চক্ষু হাসপাতাল ও ডায়াবেটিস সেন্টার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে নিয়মিত চক্ষু ক্যাম্প, স্কুলভিত্তিক চোখ পরীক্ষা, দরিদ্র রোগীদের জন্য সহায়তা, সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং প্রয়োজনীয় রোগীদের চিকিৎসা ও অপারেশনের জন্য রেফারেল ব্যবস্থা আরও সম্প্রসারণ করা হবে।
চিকিৎসাসেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়ে চরফ্যাশন ও আশপাশের উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর চোখের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় একটি নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে ওঠাই তাদের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
Leave a Reply