ভারতের উত্তর প্রদেশে গুরুতর আহত তরুণী, হত্যাচেষ্টা মামলায় বাবা গ্রেপ্তার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভারতের উত্তর প্রদেশে বাবার পছন্দ করা পাত্রকে বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় ঘুমন্ত মেয়েকে গুলি করার অভিযোগ উঠেছে বাবার বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত ১৯ বছর বয়সী তরুণী বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি উত্তর প্রদেশের মৈনপুরী জেলার ভোঁগাও শহরে গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঘটে। আহত তরুণীর নাম শাজিয়া।
পুলিশের বরাত দিয়ে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে, শাজিয়া স্থানীয় এক যুবককে ভালোবাসতেন এবং তাঁকেই বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর বাবা আসিন খান (৪৮) মেয়ের বিয়ে অন্য এক পাত্রের সঙ্গে ঠিক করেন। আগামী ১৯ নভেম্বর বিয়ের দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিজের পছন্দের মানুষকে বিয়ে করার সিদ্ধান্তে অটল থাকায় বাবা-মেয়ের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে শাজিয়া ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় তাঁর বাবা তাঁকে গুলি করেন।
গুলির শব্দ শুনে শাজিয়ার মা খেরুন্নিসা কক্ষে ছুটে যান। পরে গুরুতর আহত মেয়েকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় জেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাইফাই মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করেন।
মৈনপুরী পুলিশের কর্মকর্তা অরুণ কুমার সিংয়ের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ঘটনার তদন্তে পুলিশ পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলেছে। এ ঘটনায় শাজিয়ার মা তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন। পরে পুলিশ অভিযুক্ত আসিন খানকে গ্রেপ্তার করে।
ঘটনাটি বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে ব্যক্তির নিজস্ব মতামত ও সম্মতির গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে। পরিবারের পছন্দ ও ব্যক্তির পছন্দের মধ্যে মতবিরোধ থাকলেও কোনো ধরনের সহিংসতা গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের ঘটনায় ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
Leave a Reply